ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরের ‘ইন্দুরকানী’ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ নামকরণের উদ্যোগ

বাংলার জমিন ডেস্ক :
আপলোড সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০৫:০৩:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১২-০৩-২০২৬ ০৫:০৩:৫৯ অপরাহ্ন
পিরোজপুরের ‘ইন্দুরকানী’ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ নামকরণের উদ্যোগ ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ উপজেলা নামকরণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও দাবি চলমান রয়েছে। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বহুদিন ধরেই উপজেলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘জিয়ানগর’ নামটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয়দের মতে, ইন্দুরকানী উপজেলার পূর্ব নাম ছিল জিয়ানগর। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি ‘জিয়ানগর’ নামেই পরিচিত ছিল এবং স্থানীয় জনগণের কাছে এই নামটির প্রতি একটি আবেগ ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরবর্তীতে উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়। এর ফলে অনেকের মতে এলাকার ঐতিহাসিক পরিচয় কিছুটা হারিয়ে গেছে।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, জিয়ানগর নামটি শুধু একটি নাম নয়, এটি এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার নাম পুনরায় জিয়ানগর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, আলোচনা সভা এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে উপজেলার নাম জিয়ানগর করা হলে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসও পুনরুজ্জীবিত হবে।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও কাগজপত্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক তথ্য, স্থানীয় জনগণের মতামত এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি এলাকার নাম সেই অঞ্চলের পরিচয় বহন করে এবং তা মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

স্থানীয়দের আশা, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় ‘জিয়ানগর’ করা হবে। এতে এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাস নতুনভাবে পরিচিতি পাবে এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত একটি নাম পুনরুদ্ধার করা হলে তা শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যেই নয়, সমগ্র জেলার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যদি ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে জিয়ানগর উপজেলা করা হয়, তবে তা স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Jamin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ